শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন শ্রীভূমিতে

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ আগস্ট
: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিযুগের অমর বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করল এআইডিএসও ও কিশোর-কিশোরী সংগঠন কমসোমল। সোমবার সকালে করিমগঞ্জ শহরের ছন্তরবাজার পয়েন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

সকাল সাড়ে ৮টায় ক্ষুদিরাম বসুর প্রতিকৃতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর কমসোমলের কিশোর-কিশোরী বাহিনীর সদস্যরা শৃঙ্খলাবদ্ধ প্যারেডের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সড়ক পরিক্রমা করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে বিপ্লবীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এআইডিএসওর করিমগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার পাল, কমসোমলের পক্ষে রাঁধা কোহার, জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ দাস, বাবলি দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মাত্র ১৮ বছর বয়সে হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দিয়েছিলেন বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। তাঁর আত্মত্যাগ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অগণিত বিপ্লবী ও শহীদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই পরবর্তীতে ভারত স্বাধীনতার সূর্য দেখেছিল।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার কয়েক দশক পরও ক্ষুদিরাম বসু ও তাঁর সহযোদ্ধাদের স্বপ্নের ভারতবর্ষ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার, সাম্প্রদায়িকতা, অপসংস্কৃতি, অশিক্ষা ও কুশিক্ষার মতো নানা সমস্যা এখনও সমাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। তাঁদের অভিযোগ, আধুনিক গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও ক্ষুদিরাম বসু, ভগৎ সিং, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মাস্টারদা সূর্য সেনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বিপ্লবীদের জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।
বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যেই বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাঁদের ত্যাগ, দেশপ্রেম, আদর্শ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নকে ধারণ করে সেই লক্ষ্য পূরণে নিজেদের নিয়োজিত করাই হবে তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

অনুষ্ঠানের শেষে সংগঠনের কর্মীরা বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর স্মারক ব্যাজ পরিয়ে দেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আত্মত্যাগ ও আদর্শের তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। দেশাত্মবোধ, শৃঙ্খলা ও গভীর শ্রদ্ধার আবহে সমগ্র কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *