দিল্লিতে মেজর বব খাথিং স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠান, উত্তর-পূর্বে সামাজিক মাধ্যমের অপপ্রচার রুখতে সতর্কতার আহ্বান

Spread the news

২১ আগস্ট : উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় যুবসমাজকে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবার নয়াদিল্লির ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া (ইউএসআই) প্রাঙ্গণে আসাম রাইফেলস ও ইউএসআইয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মেজর বব খাথিং স্মারক বক্তৃতা ২০২৬-এ এই আহ্বান জানানো হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্মরণীয় সামরিক নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক মেজর বব খাথিংয়ের জীবন, কর্ম ও অবদানকে স্মরণ করেই প্রতিবছর এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামরিক অভিযানের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিজিৎ এস পেন্ধারকর। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, মেজর বব খাথিংয়ের জীবন ও কর্ম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর ধারণার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। মানুষের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই জাতীয় সংহতি আরও শক্তিশালী হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনায় আসাম রাইফেলসের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বয়ানের মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে যুবসমাজকে এ ধরনের অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ইউএসআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় জে. সিং স্বাগত বক্তব্যে মেজর বব খাথিংয়ের ঐতিহাসিক অবদান ও সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার তুলে ধরেন।

এ বছরের স্মারক বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল— ‘নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান ছড়াতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং তা প্রতিরোধে করণীয়।’ বিষয়টির ওপর বক্তব্য রাখেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও বিশ্লেষক সুবীর ভৌমিক। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুবীর ভৌমিক উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবর্তিত তথ্যপরিবেশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও প্রচার ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে জনমতকে প্রভাবিত করতে, মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভুয়ো তথ্য, সমন্বিত অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান মোকাবিলায় কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, প্রাক্তন সেনাকর্মী, কৌশলগত বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বক্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আসাম রাইফেলসের পূর্বাঞ্চলের মহাপরিদর্শক মেজর জেনারেল আইএস ভিন্দার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *