বরাক তরঙ্গ, ১ সেপ্টেম্বর : শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইটখলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় কয়েক বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি সরকারি ভবন। সরকারি অর্থে নির্মিত এই ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে আধুনিক অডিটোরিয়াম অথবা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে শিলচর জেলা মহিলা কংগ্রেস কমিটি।
শিলচর জেলা মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী বন্দিতা ত্রিবেদী রায় জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ২০১৬-১৭ সালের আনটাইড ফান্ডের প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘স্বামী বিবেকানন্দ অডিটোরিয়াম ও গেস্ট হাউস’ নামে ভবনটি নির্মাণ করে অসম সরকার। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবনটির কার্যক্রম শুরু হয়নি।
২০২২ সাল থেকে প্রায় এক বছর কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভবনটি শিলচর সদর সার্কল অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অফিসও শিলচর সদরঘাটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
জেলা মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রীর বক্তব্য, পর্যাপ্ত জমিসহ সদ্য নির্মিত একটি সরকারি ভবন বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহত্তর মালুগ্রাম এলাকায় এখনও কোনও অডিটোরিয়াম না থাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তাই ভবনটি সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অডিটোরিয়ামে রূপান্তর করা হলে এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে এবং যুবসমাজও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত হবে।

অন্যদিকে, অডিটোরিয়াম নির্মাণ সম্ভব না হলে ভবনটিকে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সাব-সেন্টারে রূপান্তরের দাবিও জানানো হয়েছে। কারণ, বৃহত্তর মালুগ্রাম এলাকায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান ৮ নম্বর ওয়ার্ড তথা পুরনো ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল। পরবর্তীতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বৃহত্তর মালুগ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বার্থে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি।
এই পরিপ্রেক্ষিতে শিলচর জেলা মহিলা কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রী বন্দিতা ত্রিবেদী রায়ের নেতৃত্বে কমিটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী, বরাক উপত্যকার দুই মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী, কাছাড়ের সাংসদ, উধারবন্দের বিধায়ক, কাছাড়ের জেলা কমিশনার, কাছাড়ের স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিতে বলা হয়েছে, অব্যবহৃত সরকারি ভবনটির বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কার করা হোক এবং সেটিকে হয় একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম, নয়তো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। এই দুই উদ্যোগের যেকোনও একটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর মালুগ্রাম এলাকার ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর কর্পোরেশন ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে দাবি জেলা মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রীর।



