মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ জুলাই : শ্রীভূমিতে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে পুলিশি শক্তি দিয়ে দমন করার চেষ্টা চলছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে পুলিশি দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনও গণআন্দোলনকে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা যায় না। জনগণের ন্যায্য দাবিকে গ্রেপ্তার বা হয়রানির মাধ্যমে চিরতরে স্তব্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার গভীর রাতে এনএসইউআই-এর সভাপতি সুস্মিত দেবকে সামান্য অজুহাতে করিমগঞ্জ থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে রাতভর আটক রাখা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এছাড়া, কয়েকদিন আগে জেলা কংগ্রেসের আন্দোলনের সময় কংগ্রেস নেতা সন্দ্বীপ নন্দীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও উল্লেখ করেন শাহাদত। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারকে খর্ব করার প্রবণতা উদ্বেগজনক এবং সরকারের উচিত আন্দোলনের কারণ বিবেচনা করা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া নয়।
তিনি জানান, জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ বর্তমানে জেলার বাইরে রয়েছেন এবং বিধানসভার অধিবেশনের কারণে দলের দুই বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না ও আমিনুর রশিদ চৌধুরী দিসপুরে অবস্থান করছেন। তাঁরা ফিরে এলে জেলা কমিশনার ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে অযথা হয়রানি অব্যাহত থাকলে গণতান্ত্রিক উপায়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামারও হুঁশিয়ারি দেন শাহাদত আহমদ চৌধুরী। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি নীতির অসংগতি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অসম্পূর্ণ বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব ইস্যুতে দেশজুড়ে কংগ্রেস গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন। সরকারের উচিত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের পরিবর্তে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগী হওয়া।
শেষে শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং দমননীতি বা স্বৈরাচার কখনও স্থায়ী হতে পারে না।



