বরাক তরঙ্গ, ২৪ অক্টোবর : শিলচর-ইম্ফল বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং শিলচর থেকে অন্যান্য গন্তব্যে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকপত্র প্রদান করেছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেমোরিয়াল স্বার্থসুরক্ষা পরিষদের সভাপতি হারাণ দে। তাঁর উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমান সংস্থা ইন্ডিগো জানিয়েছে, শিলচর–ইম্ফল রুটে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং শিলচর থেকে আরও বিমান যোগাযোগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পর্যালোচনা ও বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। হারাণ দে তাঁর স্মারকপত্রে উল্লেখ করেন, শিলচর থেকে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগে শিলচর ও ইম্ফলের মধ্যে বিমান পরিষেবা চালু থাকায় দুই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। আকাশপথে দূরত্ব কম হওয়ায় তুলনামূলক কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগও ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই পরিষেবা বন্ধ থাকায় দক্ষিণ অসম ও মণিপুরের মানুষকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিলচর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর একচ্ছত্র প্রাধান্য থাকায় যাত্রীদের বিকল্প সীমিত। বিশেষ করে উৎসবের মরশুম ও ব্যস্ত ভ্রমণের সময় অত্যধিক ভাড়ার কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শিলচর থেকে অন্যান্য বিমান সংস্থাকে পরিষেবা চালানোর সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিলচর–ইম্ফল বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু এবং শিলচর–তেজপুর রুটে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, PMOPG/D/2026/0196268 নম্বরের অভিযোগের জবাবে ইন্ডিগোর গ্রাহক অভিজ্ঞতা বিভাগ জানিয়েছে, শিলচর থেকে সীমিত বিমান যোগাযোগ এবং তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীদের সমস্যার বিষয়টি তারা অবগত। সংস্থার প্রতিনিধি শিল্পী সোনি জানান, শিলচর–ইম্ফল রুটে পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং শিলচর থেকে আরও বিমান যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। বিমান ভাড়া প্রসঙ্গে ইন্ডিগো জানিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা, আসনের প্রাপ্যতা, পরিচালন ব্যয়, মরশুমি পরিস্থিতি ও বাজারের অবস্থার ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়। তাই ভ্রমণের তারিখ এবং টিকিট বুকিংয়ের সময় অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য হতে পারে। তুলনামূলক কম ভাড়ায় টিকিট পেতে আগাম বুকিংয়ের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে কোনও রুটে বিমান পরিষেবা চালু বা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত পরিচালনগত, বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল বলেও জানিয়েছে ইন্ডিগো।



