২৭ অক্টোবর : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবকের পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। নিহত যুবকের নাম প্রহ্লাদ দাস।
পুলিশ সূত্রের প্রাথমিক দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালান। এতে এক পুলিশকর্মী জখম হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। সেই গুলিতে জখম হন প্রহ্লাদও। পরে তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গত রবিবার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন দিক থেকে উদ্ধার হয় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীর বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে কিশোরীকে। এই ঘটনায় রবিবারই নিহত কিশোরীর পরিবারের এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযুক্তকে। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশের সীমান্তের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ই পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তের সংঘর্ষ হয় বলে দাবি। তবে এই এনকাউন্টারের ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে পৌঁছান নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশকর্মী।

উল্লেখ্য, গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। সেখানে তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন আসে। ফোন পাওয়ার পর সে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।
রাতে কিশোরী বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে উদ্ধার হয় তার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ। এই ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। এরপর অভিযুক্তের পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



