প্রত্যন্ত চা-বাগান থেকে এমবিবিএস—মনীশ কৈরির সাফল্যে গর্বিত ইছাবিল বাগানবাসী

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ মে : প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইছাবিল চা-বাগানের কালাছড়া লাইনের তরুণ মনিষ কৈরি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ এবং অদম্য মানসিক শক্তির জোরে এমবিবিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শুধু নিজের পরিবার নয়, সমগ্র ইছাবিল চা-বাগান এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

পাথারকান্দি কেন্দ্রের অন্তর্গত ইছাবিল চা বাগানের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মনীশ কৈরি এবার শ্রীমন্ত শঙ্করদেব স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, গুয়াহাটি থেকে এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর এই কৃতিত্বে পরিবার-পরিজনসহ গোটা এলাকার মানুষ আনন্দ ও গর্বে উচ্ছ্বসিত।

একান্ত আলাপচারিতায় মনীশ তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। প্রত্যন্ত চা বাগান এলাকায় বেড়ে ওঠা মনীশের শিক্ষার পথ মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের বাজারিছড়া এলাকার তৎকালীন মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান হাইস্কুলে কেজি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। পরে করিমগঞ্জ জুনিয়র কলেজ অফ সায়েন্সে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। কঠোর অধ্যবসায় ও মেধার জোরে তিনি বরপেটা মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। পরবর্তীতে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর দ্বিতীয় বর্ষে স্থানান্তর হয়ে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন মনিষ। সেখানেই চূড়ান্ত বর্ষ পর্যন্ত সফলভাবে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে শিলচর মেডিকেল কলেজেই এক বছরের ইন্টার্নশিপে নিয়োজিত রয়েছেন, যা তাঁর চিকিৎসক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

পরিবারের সদস্যদের মতে, ছোটবেলা থেকেই মনিষ অত্যন্ত মেধাবী, নিয়মিত ও পরিশ্রমী ছাত্র ছিলেন। তবে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে বাবা-মায়ের অক্লান্ত ত্যাগ ও সংগ্রামের।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মনীশের দাদু মহাবল কৈরি বৃহত্তর বরাক উপত্যকার চা বাগান অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দাদুর আদর্শ ও মানবসেবার শিক্ষা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান মনিষ। একইসঙ্গে কাকু মনোজ কৈরির অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি। প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মনীশের বার্তা—“একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক লক্ষ্য এবং নিয়মানুবর্তিতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিকূলতা যতই থাকুক, লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য একদিন অবশ্যই ধরা দেবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *