নির্বাচনে ভরাডুবির পর কংগ্রেসে ভাঙন, দল ছাড়লেন জ্যেষ্ঠ নেতা মনোরঞ্জন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ মে : নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর অসম প্রদেশ কংগ্রেসে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। এবার দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন অসম প্রদেশ কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ও রাজ্য সম্পাদক মনোরঞ্জন বরগোঁহাই। শিবসাগরের রংপুর জ্যোতি ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

দল ছাড়ার পেছনে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের কাজকর্মের প্রতি তীব্র অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এই সময়ে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলত্যাগের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করে মনোরঞ্জনবাবু বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। কিন্তু বর্তমানে গৌরব গগৈয়ের স্বেচ্ছাচারিতায় আমি অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ। কংগ্রেস এখন পাগলামি ও বিশৃঙ্খলার দলে পরিণত হয়েছে। তরুণ গগৈ না থাকার পর থেকেই দলে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। এখন তেলবাজি ও তুষ্টিকরণ করলেই টিকিট পাওয়া যায়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতা প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল এবং এর পিছনে দলেরই কয়েকজন বিধায়ক জড়িত ছিলেন। যদিও প্রদ্যুৎ বরদলৈ বিষয়টি নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন, তবুও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মনোরঞ্জন বরগোঁহাই দাবি করেন, “গৌরব গগৈ বিদেশ থেকে ফেরার পর উজনি অসমে তাঁকে মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমিই নিয়েছিলাম। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর তিনি আর দলীয় কর্মীদের গুরুত্ব দেননি।”

তাঁর অভিযোগ, কোনও দলীয় কর্মী অসুস্থ হলে, দুর্ঘটনায় পড়লে কিংবা পরিবারের কারও মৃত্যু হলেও গৌরৱ গগৈ কখনও খোঁজ নেন না। সাংসদ হওয়ার পরও তিনি উন্নয়নমূলক বিষয়ে কোনও পুরপতি বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেননি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এছাড়াও মনোরঞ্জন বরগোঁহাই বলেন, যোরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও গৌরব গগৈ কখনও উপস্থিত হননি। তাঁর কথায়, “কংগ্রেসে যোগ্য মানুষের কোনও মূল্য নেই। তেলবাজি আর তুষ্টিকরণই এখন যোগ্যতার মাপকাঠি। দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

তাঁর এই পদত্যাগ এবং বিস্ফোরক মন্তব্যকে ঘিরে অসমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *