৮ মে : হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরান অভিযোগ করে, তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যাপক পালটা অভিযান চালায়।
ইরানের দাবি, জাস্ক বন্দরের কাছে থাকা তাদের তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসনকে লক্ষ্য করে একাধিক জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের হামলা সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাশাপাশি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’র অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও সিরিক এলাকার সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে নিজেদের বাহিনী ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, তেহরান এই ঘটনাকে সরাসরি ‘মার্কিন আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই দাবি কার্যত খারিজ করা হয়েছে।
এদিকে, আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে বৃহৎ পরিসরের যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ারকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।



