দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট : কাছাড় জেলার শিলচরের মাছিমপুরে অবস্থিত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে)-এর বিআর দত্ত অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার কৃষকদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক সভা ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের বীজের পাশাপাশি নারিকেল, লেবু ও সুপারি গাছের চারা কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, আধুনিক চাষাবাদ এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৃষকদের সচেতন ও প্রশিক্ষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কঙ্কন নারায়ণ শিকদার, জেলা কৃষি আধিকারিক (ডিএও) রাহুল চক্রবর্তী, কুমারপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী অপর্ণা দাস, সহ-সভাপতি দীপঙ্কর পাল এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র বিজ্ঞানী সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক কিশোর নাথ বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুফল তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধিরাও নিরলসভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
কাছাড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কঙ্কন নারায়ণ শিকদার কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, বিতরণ করা উন্নতমানের বীজ ও চারাগুলি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে রোপণ ও সঠিক পরিচর্যা করলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বাগত ভাষণে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র বিজ্ঞানী সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি টেকসই কৃষি ও মাটি সংরক্ষণ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি আধিকারিক রাহুল চক্রবর্তী, কুমারপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী অপর্ণা দাসসহ অন্যান্য বক্তারা কৃষি সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সরকারি কৃষি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভা পরিচালনা করেন কৃষি বিজ্ঞানী মনোরঞ্জন রায় ও সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. হিমাংশু মিশ্র। অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞানী ড. অনন্দিতা দাস, ড. থমার্স তাই, তিমুং, বিজিত ডেকা, তেরাং, প্রসেনজিৎ সিনহাসহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।



