বরাক তরঙ্গ, ২৬ অক্টোবর : সরকারি আর্থিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের উদ্যোগে কাছাড় জেলার ভুবনডহর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আয়োজিত হলো বিশেষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শিবির। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই শিবিরে পরিষেবা গ্রহণের জন্য ভিড় জমান পাঁচ শতাধিক মানুষ।
ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন স্যাচুরেশন ক্যাম্পেইন’-এর আওতায় ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের ধলাই শাখার ব্যবস্থাপনায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়।
শিবিরে প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা এবং অটল পেনশন যোজনায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পান উপভোক্তারা। পাশাপাশি আধার সংযুক্তিকরণ, কেওয়াইসি ও পুনরায় কেওয়াইসি সম্পন্ন করা, কিষান ক্রেডিট কার্ডের আবেদন, নিষ্ক্রিয় জনধন অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা, নমিনি সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ এবং দাবিহীন আমানত সংক্রান্ত পরিষেবা গ্রহণেও সহায়তা করা হয়।

এদিন দুপুর ১টা নাগাদ শিবির পরিদর্শন করেন ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের শিলচর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনীশ উপাল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যাঙ্কের রিজিওনাল বিজনেস অফিসের এফআই ম্যানেজার দেবাশিস হালই, ধলাই শাখার প্রবন্ধক রেবতীরঞ্জন কুমারা, ব্যাঙ্ককর্মী রঞ্জন সিংহ, ভুবনডহর গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী, আঞ্চলিক পঞ্চায়েতের সদস্য, বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শিবিরে স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনীশ উপাল। ব্যাংকের বিভিন্ন পরিষেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মনীশ উপাল বলেন, এই ধরনের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শিবিরের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে ব্যাংকিং পরিষেবা এবং সরকারি আর্থিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে আর্থিক পরিষেবার আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিবিরে গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ব্যাঙ্কমিত্র তৈবুর রহমান মজুমদার, রাজিব হোসেন মজুমদার, জহিরুল ইসলাম লস্কর এবং নমিতা রানী রায়।
ভুবনডহর গ্রাম পঞ্চায়েতে আয়োজিত এই শিবিরে পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ এলাকায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ও সরকারি আর্থিক সুরক্ষা প্রকল্প সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতারই পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।



