বরাক তরঙ্গ, ২৫ মে : একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঠিক তেমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা হলেন শিলচরের মেহেরপুর এলাকার বাসিন্দা মিসেস নীলম যাদব। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে “JUBO DARPAN EXCELLENT AWARDS 2026”-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
শিক্ষকতা পেশাকে শুধুমাত্র চাকরি হিসেবে নয়, বরং সমাজসেবার এক মহান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন নীলম যাদব। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান করে চলেছেন এবং তাঁর হাত ধরেই বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন একজন ছাত্র শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে না, বরং একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবেও নিজেকে গড়ে তোলে।
তাঁর শিক্ষাদানের পদ্ধতি সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং মমত্ববোধ তাঁকে একজন জনপ্রিয় ও সম্মানিত শিক্ষিকায় পরিণত করেছে।
বরাক উপত্যকার শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক পটভূমি থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করা, আত্মবিশ্বাস জোগানো এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেওয়ার কাজ তিনি নিরলসভাবে করে চলেছেন।
সমাজের প্রতি তাঁর অবদান শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার প্রতি উৎসাহিত করেন। তাঁর মতে, একটি শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে। তাই তিনি প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন।
নীলম যাদবের অন্যতম বিশেষ উদ্যোগ হলো শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের প্রতি গুরুত্ব প্রদান। তিনি বিশ্বাস করেন, শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান নয়, বরং জীবনবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভদ্রতা ও মানবিক মূল্যবোধও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছেন।
ভবিষ্যতেও তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবার এই পথেই এগিয়ে যেতে চান। বিশেষ করে বরাক উপত্যকার গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আরও বেশি কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। মানসম্মত শিক্ষা, সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, আগামী দিনে গৌহাটিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “যুব দর্পণ এক্সেলেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬”। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিত্বদের এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজনে রয়েছে Netaji Chatra Yub Sangha এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন যুব দর্পণ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মি. দিলু দাস।
সমাজ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নীলম যাদবের এই দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ অবদানকে সম্মান জানাতে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য মনোনীত করায় শিক্ষা মহলে খুশির আবহ লক্ষ্য করা গেছে।



