বন্যাত্রাণে পিপি পাবলিকেশনের ছয়হাজার পাঠ্যপুস্তক ও খাতা বিতরণ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২ সেপ্টেম্বর : উজান অসমের প্রলয়ংকরী বন্যায় বিপর্যস্ত বিদ্যার্থীদের জন্য এগিয়ে এল উত্তর-পূর্বের অভিজাত প্রকাশন সংস্থা পিপি পাবলিকেশনস। এই প্রকাশন সংস্থার উদ্যোগে উজানের বন্যাবিধ্বস্ত‌ বিদ্যার্থীদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছয় হাজার পাঠ্যপুস্তক-সহায়িকা এবং আড়াই হাজার খাতা বিতরণ করার মহতী কার্যসূচি গ্রহণ করা হল।‌সবচেয়ে বিস্ময়কর কথা হল, এই অসমিয়া ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্য-সহায়িকা ও‌ খাতাগুলি পুরাতন স্টক থেকে প্রদান করা হয়নি, পিপি পাবলিকেশনের তরফে প্রতিটি পাঠ্য-সহায়িকা ও খাতা বন্যাক্রান্ত বিদ্যার্থীদের জন্য নতুন  ছাপা করা হয়েছে এবং প্রচ্ছদে ‘উজানের বন্যাক্রান্ত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যার্থীদের জন্য’ উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থাপনায় আছে বরাক-ব্রহ্মপুত্রের সবচেয়ে বড় সাহিত্য-সংস্কৃতিমূলক সংস্থা ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’। আর এই ছয় হাজার গ্রন্থ-খাতা উজানের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে ভারতের অগ্রণী রাষ্ট্রবাদী জনসেবী সংস্থা ‘সেবা ভারতী’।

মঙ্গলবার ‘সেবা ভারতী’-র লাচিতনগরস্থিত কার্যালয়ের সভাগৃহে এক অনাড়ম্বর বৈঠকে এই ‘সেবা ভারতী’-র হাতে সমস্ত পাঠ্য-সহায়িকা ও খাতা তুলে দেন পিপি পাবলিকেশনের কর্ণধার বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রণব রায় এবং ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর অন্যতম কর্ণধার তুষারকান্তি সাহা ও বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত।‌ উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর রাজ্যিক সাধারণ সম্পাদক ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী, রাজ্যিক সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিশিষ্ট অভিনেতা বাচিকশিল্পী অমল চক্রবর্তী, সভার গুয়াহাটি শাখার সভাপতি অসীম সরকার, অন্যতম সাধারণ সম্পাদক(সাংগঠনিক) জয়া নাথ, সভার প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক অনন্যা মজুমদার, বিশিষ্ট শিল্পী শ্রেয়া নাথ প্রমুখ। ‘সেবা ভারতী’-র পক্ষে অসমপ্রান্তপ্রমুখ ঋজু দত্ত এই পাঠ্য-সহায়িকা ও খাতা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘উজানের বিপর্যয়ে সেবা ভারতী ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। সমাগত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, তার প্রাক্কালে পিপি পাবলিকেশন ও বাংলা সাহিত্য সভা, অসম-এর এই উদ্যোগ বিদ্যার্থীদের প্রভূত সাহায্য করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেবা ভারতীর রাষ্ট্রসেবাব্রতে পিপি পাবলিকেশন ও বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’ আজ থেকে যুক্ত হলো, একই পরিবারের মতো আমরা রাষ্ট্রউন্নয়নে কাজ করতে পারব।’ পিপি পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী প্রণব রায় বলেন, ‘উজানে যা ঘটেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় বিদ্যার্থীদের ভবিষ্যৎ। কয়েকটা জেলায় একটা প্রজন্ম যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ সামনেই জীবনের বৃহৎ পরীক্ষা। বিদ্যার্থীদের হাতে বইপত্র নেই। তাই আমরা নতুন করে এই পাঠ্যসহায়িকা ও খাতাগুলি ছাপিয়েছি, শুধু ওদের জন্য। অসম সরকার ইতিমধ্যে মূল পাঠ্যপুস্তকগুলি বিতরণ করেছেন। আমাদের বইগুলি তারই পরিপূরক। আমাদের এই প্রয়াস অন্তত ছয় হাজার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যার্থীদের মুখে আশাকরি হাসি ফোটাবে।’ তিনি ‘সেবা ভারতী’-র উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি। ডাকতে হবে না। আমরা নিজেরাই এগিয়ে এসে রাষ্ট্রসেবায় আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হব।’

‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর পক্ষে তুষারকান্তি সাহা বলেন, ‘উজানে যা ঘটেছে তা নিছক বন্যা নয়, এক মহাবিপর্যয়। পিপি পাবলিকেশন আর সেবা ভারতীর মধ্যে দাঁড়িয়ে এক মহতী কর্মসূচিতে বাংলা সাহিত্য সভা, অসম যুক্ত হল। এইরকম সেবামূলক কাজে আমরা নিরন্তর মানুষের পাশে আছি, থাকব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *