বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুলাই : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে দেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিজয় বলে অভিহিত করেছে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এআইডিওয়াইও) এবং অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও)। পৃথক বিবৃতিতে দুই সংগঠনই জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এআইডিওয়াইও-র সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কুমার এক বিবৃতিতে বলেন, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র, যুব, শিক্ষক, অধ্যাপক, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আন্দোলনে সামিল হন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া যুবসমাজের সাহস, দৃঢ়তা এবং পুলিশি দমন-পীড়নের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে সংগঠনটি জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারের জবাবদিহিতার সূচনা মাত্র। তাদের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বিলুপ্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি দপ্তরের সমস্ত শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, এআইডিএসও-র সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস প্রহরাজ এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন, দেশের ছাত্র-যুব এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে পদত্যাগপত্রে আন্দোলনকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তির দ্বারা পরিচালিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয় এবং বেকারত্বের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল কারণ।
এআইডিএসও আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশি হামলা ও অসদাচরণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০ ও এনটিএ-র বিরুদ্ধে গণআন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় বামপন্থী, গণতান্ত্রিক শক্তি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আবেদনও জানানো হয়েছে।



