ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধের দাবিতে ধুবড়িতে বিক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুন : ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন রোধে বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার ধুবড়িতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল ‘ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সুরক্ষার সংগ্রাম কমিটি, অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলা, আসাম’। কর্মসূচি শেষে ধুবড়ি জেলা কমিশনারের মাধ্যমে রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনের ফলে অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলার দক্ষিণ তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা গত কয়েক দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাগলারটেক খারমুজা থেকে হাটশিংমারি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ব্যাপক ভাঙনের জেরে বালারভিতা, ফেটাঙ্গাপাড়া, চুনারি, তুলসীবাড়ি, জলেশ্বর, মেদারতারি, ফকিরগঞ্জ, চাটলারপার, মতিফাতা, শালমাড়া, হাজিরহাট, পটাকাটা ও সুখচরসহ বহু ঐতিহ্যবাহী জনপদ এবং বাণিজ্যিক এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

সংগঠনের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। বাঁশের বেড়া, খাঁচা ও অন্যান্য অস্থায়ী প্রকল্পে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করা হলেও সেগুলি স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। এর ফলে লক্ষাধিক মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন এবং জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছেন। স্মারকলিপিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সরকারি নথিভুক্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভাঙনকবলিতদের জন্য বিশেষ সনদপত্র প্রদানের ব্যবস্থাও চালুর দাবি তোলা হয়।

সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— খারমুজা থেকে হাটশিংমারি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে বিজ্ঞানভিত্তিক স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, ভাঙনকবলিতদের সরকারি নিবন্ধন ও সনদপত্র প্রদান এবং প্লাবিত জমি সংক্রান্ত বিদ্যমান সরকারি আইন বাতিল করা।

বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *