নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ অবস্থা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫

Spread the news

২৭ আগস্ট : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হঠাৎ বান আসার পর প্রবল জলের স্রোতে বহু এলাকা ভেসে যায়। নিশ্চিহ্ন হয়েছে একাধিক গ্রাম। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১৬৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রভাব নিয়ে এবার উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারতের বিহারেও। তিব্বত থেকে নেমে আসা বিপুল জল ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও গণ্ডক নদীপথে বিহারে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রায় ৪০৩ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ১৪২ জন ভারতীয় ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার নাগরিক রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের নিরাপত্তাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। কাদার স্তর সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবিত কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও ত্রাণকর্মীদের দাবি, বেশ কিছু বসতি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণে সরকারের সমস্ত সংস্থান কাজে লাগানো হবে। বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাষ্ট্র রয়েছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহমর্মিতা এবং সাহায্যের প্রস্তাবের জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাহ। নেপালের এখন মূল লক্ষ্য, নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *