২ সেপ্টেম্বর : নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের জল গণ্ডক ও কোশী নদীর মাধ্যমে উত্তর বিহারের সমতল এলাকায় প্রবেশ করেছে। এর ফলে বন্যার জলের সঙ্গে ভেসে আসা মাছ ও আবর্জনা ঘিরে তৈরি হয়েছে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিহার সরকার সতর্কতা জারি করে বন্যার জলে পাওয়া মাছ না ধরার পাশাপাশি সেগুলি কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার কারণে নদী, পুকুর ও হ্রদের মাছ লোকালয় ও জলমগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। নিকাশি নালা, পচে যাওয়া মৃতদেহ এবং বিভিন্ন দূষিত বস্তুর সংস্পর্শে আসায় এসব মাছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও রোগজীবাণু থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই অপরিচিত মাছ খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই ধরনের সতর্কবার্তা নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকেও দেশটির নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু মাছ নয়, নেপালের বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে নদীর জলেও। নদীপথে বিপুল পরিমাণ পলি, পাথর, গাছের গুঁড়ি, ভেঙে পড়া সেতুর অংশ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসছে। এর পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, গাড়ি ও বিভিন্ন গৃহস্থালির সামগ্রীও ভেসে আসার খবর রয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, বন্যার জলে মানুষ ও পশুর মৃতদেহ ভেসে আসায় জলবাহিত রোগের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দূষিত জলের কারণে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ ও হেপাটাইটিস-ই-এর মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় জল জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।



