২ সেপ্টেম্বর : লোকসভা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হয়রানি এড়াতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে (Mahua Moitra) পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, মহুয়া যখনই তাঁর কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁর সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে দু’জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে। যাতে তিনি নির্বাচনি এলাকায় কোনো ধরনের সমস্যার মুখে না পড়েন। তবে আপাতত এই পুলিশি নিরাপত্তা ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। আগামী ১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার দিনই নদিয়ার চাপড়ায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন ওই সাংসদ।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন যে, মহুয়া মৈত্র কোন কোন তারিখে নিজের লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, সেই নির্দিষ্ট তারিখগুলি আগে থেকেই পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে হবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে হবে।
নিজেকে নিরাপদ রাখতে ও স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, নিজ কেন্দ্রে গেলেই তাঁর মক্কেলকে লক্ষ্য করে ডিম, আলু ও পাথর ছোড়া হচ্ছে। একজন নির্বাচিত সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না, অথচ সম্প্রতি দলবদল করা কিছু সাংসদ সরকারি সুরক্ষা পাচ্ছেন। এই সওয়াল শুনে বিচারপতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, কোনো জনপ্রতিনিধির উপর এমন আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং রাজ্য প্রশাসনের উচিত অত্যন্ত কঠোরভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা।News
এদিকে হাইকোর্ট যখন সুরক্ষার পক্ষে সওয়াল করছে, ঠিক সেই সময়ই নদিয়ার (Nadia) চাপড়ায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের শিকার হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। অভিযোগ ওঠে, কর্মী সম্মেলন শেষ করে বেরোনোর সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধেই এই বিক্ষোভের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশবাহিনী।



