লাহরিঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় জনসুমুদ্র
বিশেষ প্রতিবেদক, মরিগাঁও।
বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত লাহরিঘাট বিধানসভা আসনের তিনসুকিয়া রাজীব গান্ধী খেলার মাঠে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস শর্মার হয়ে এক বিশাল নির্বাচনী প্রচার সভায় অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত লাহরিঘাটে ব্যাপক জনসমাবেশের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অঞ্চলটির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের জন্য বিজেপি দলকে ভোট প্রদানের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রচার সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত অসমে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই দলটিকে ভোট দিয়ে জনগণ কোনও লাভ পাবেন না। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “একবার বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন। যদি আমরা কাজ করি, তাহলে ২০৩১ সালে আবার ভোট দিন; আর যদি খারাপ কাজ করি, তাহলে ভোট দেবেন না।” লাহরিঘাটের বিধায়ক ড. আসিফ মহম্মদ নজরকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করে ড. শর্মা কংগ্রেস বিধায়ককে পাগলের সঙ্গে তুলনা করেন। বিগত সময়ে আসনটিতে হওয়া অন্যায় রাজনীতির কারণে জনগণ কংগ্রেসকে যোগ্য জবাব দিয়ে বিজেপি প্রার্থীর জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে লাহরিঘাটের বন্যা-নদীভাঙন সমস্যা সমাধান, নতুন বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয় স্থাপন, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোর বিকাশের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সম্পর্কে সৃষ্ট বিতর্ক প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট করেন যে , তিনি কখনোই সাধারণ জনগণ বা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার পক্ষপাতী নন এবং এমন ঘটনা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, গৌরব গগৈ বিজেপি ক্ষমতা হারালে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে তিনি বলেন , বিজেপি সর্বদা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে বিশ্বাস করে এবং আইন তথা বিচারের অধিকার কোনো ব্যক্তিবিশেষের হাতে থাকে না।
লাহরিঘাটের এই বিশাল নির্বাচনী সভা নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির পক্ষে এক শক্তিশালী জোয়ার সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য , মুখ্যমন্ত্রী শর্মা অংশগ্রহণ করা লাহরিঘাটের নির্বাচনী সভায় মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা, বিজেপি বিধায়ক নারায়ণ ডেকা, ভূপেন বরা, প্রাক্তন বিধায়ক অমিয়কুমার ভূঞাঁ, অগপ বিধায়ক ড. তপন দাসসহ বহু রাজ্যিক ও জেলা পর্যায়ের মিত্রজোটের নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রায় ৫০ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



