মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ অক্টোবর : গ্রামীণ শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের ভুরুঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এলাকার দুটি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১৫তম অর্থ কমিশনের আওতায় মোট ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থে পারুগাঁও গ্রামের ৬৩২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার এবং ভুরুঙ্গা গ্রামের শ্রী শ্রী ঠাকুর ভুবনেশ্বর এমভি স্কুলে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে উভয় প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫তম অর্থ কমিশনের আওতায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন লাভ করে। রাধাপেয়ারী জেলা পরিষদ সমষ্টির সদস্যা বীণা রানী সিনহার প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে পারুগাঁও গ্রামের ৬৩২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং ভুরুঙ্গার শ্রী শ্রী ঠাকুর ভুবনেশ্বর এমভি স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য আরও ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পারুগাঁওয়ের ৬৩২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের আশা, সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হলে খুদে পড়ুয়ারা আরও উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। অবশেষে বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, ভুরুঙ্গা গ্রামের শ্রী শ্রী ঠাকুর ভুবনেশ্বর এমভি স্কুলে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্তকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মিত হলে স্কুল চত্বরের নিরাপত্তা বাড়বে এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি সংরক্ষণেও সুবিধা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রকল্প দুটির কাজের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিলাল সিনহা। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে রাধাপেয়ারী জেলা পরিষদ সমষ্টির সদস্যা বীণা রানী সিনহা, ভুরুঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি সঞ্জীব সিনহা, প্রবীণা সিনহা, অখিল সিনহা-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। আর শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন উন্নত পরিকাঠামো, নিরাপদ বিদ্যালয় চত্বর এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ, এই বিদ্যালয়গুলির মাধ্যমেই এলাকার বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।



