দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ সেপ্টেম্বর : দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বরাক ব্রাহ্মণ পরিষদের উদ্যোগে শ্রীশ্রী গোপালজিউ আখড়ায় সম্পন্ন হল তিন দিনব্যাপী বিশেষ পুরোহিত প্রশিক্ষণ শিবির। শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করা, চণ্ডীপাঠ এবং শান্তিপূর্ণ বিসর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এই প্রশিক্ষণ শিবিরে।
ভারত সেবাশ্রম সংঘের উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রচার সম্পাদক স্বামী তত্ত্বানন্দ মহারাজ প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শিবিরের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. সুখময় ভট্টাচার্য, পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য, পুরোহিত রাহুল ভট্টাচার্য, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ অজিত ভট্টাচার্য, মৃদুল ভট্টাচার্য, দ্বিগেন্দ্র ভট্টাচার্য ও সুমন ভট্টাচার্য।
প্রশিক্ষণ শিবিরে মহাষ্টমীর প্রাতঃকৃত্য, দেবীর মহাস্নান, সর্বৌষধি ও মহৌষধি প্রস্তুতি, শুদ্ধ উপাচার সংগ্রহ, সন্ধিপূজা, শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে প্রতিমা স্থাপন, ষোড়শোপচার পূজা, কুমারী পূজা, বৈদিক হোম, অপরাজিতা পূজা, প্রশস্তি বন্দনা, নবপত্রিকা বন্ধন এবং বিসর্জনের নিয়ম হাতে-কলমে শেখানো হয়। পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্য সন্ধিপূজার নিয়ম এবং শাস্ত্রমতে প্রতিমা স্থাপনের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। প্রশিক্ষক রাহুল ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য প্রশিক্ষকরা বৈদিক যজ্ঞের ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। চণ্ডীপাঠের প্রশিক্ষণ দেন সুভাষ ভট্টাচার্য ও গৌতম চক্রবর্তী।
রবিবার শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি অতনু ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি বিভাস রঞ্জন ভট্টাচার্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তিথির স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের দুর্গাপূজার সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রায় ১২০ জন পুরোহিতের হাতে লিখিত ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে দশমীর দিনেই পূজা সম্পন্ন করে শাস্ত্রীয় ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রতিমা বিসর্জনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে উচ্চশব্দ ও শব্দদূষণ এড়িয়ে ঐতিহ্যসম্মতভাবে দেবীকে বিদায় জানানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিষদের সম্পাদক কঙ্কন ভট্টাচার্য।



