দিল্লি থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী, নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় অসম রাজনীতি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : অসমের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন ‘হিমন্ত ২.০’ সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির জল্পনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দিসপুর থেকে দিল্লি— সর্বত্রই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।

সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে সেখানেই চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। দিল্লির সবুজ সংকেত নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী অসমে ফিরেছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

দলীয় সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে বিজেপির সাংগঠনিক নীতি অনুযায়ী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। ফলে নানা নাম নিয়ে জল্পনা চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বরাক উপত্যকায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল দাবি জানিয়ে আসছে যে, জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক গুরুত্বের নিরিখে বরাকের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচনের আগে দক্ষিণ অসমের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে শাসকদল। কারণ বরাক উপত্যকা বর্তমানে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ফলে মন্ত্রিসভায় বরাক থেকে এক বা একাধিক নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে, আবার কেউ দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার জন্য আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকেও সামনে আনার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ শুধুমাত্র শূন্য পদ পূরণের বিষয় নয়। বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও বার্তা বহন করবে এই সিদ্ধান্ত। আঞ্চলিক ভারসাম্য, জাতিগত সমীকরণ, সাংগঠনিক অবদান এবং প্রশাসনিক দক্ষতার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন মন্ত্রী নির্বাচন করা হতে পারে।
বিশেষ করে লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন একটি বার্তা দিতে চাইবে বিজেপি, যাতে রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও কম নয়। বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের মতে, নতুন মন্ত্রী যিনিই হোন না কেন, তাঁকে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন— এই বিষয়গুলিই মানুষের প্রধান দাবি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব শুধু রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয় নয়, এটি জনসেবার বড় দায়িত্বও বটে। ফলে যাঁদের হাতে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব যাবে, তাঁদের সামনে থাকবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

অসমের রাজনৈতিক অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন— হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন? বরাক উপত্যকার তিন জেলার কোন কোন নেতার ভাগ্যে জুটবে মন্ত্রিত্বের মুকুট? অভিজ্ঞদের উপরই কি আস্থা রাখবে দল, নাকি উঠে আসবে নতুন মুখ?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে এখন অপেক্ষা ৫ সেপ্টেম্বরের। ততদিন পর্যন্ত দিশপুর থেকে দিল্লি, শাসক থেকে বিরোধী শিবির— সর্বত্রই চলবে রাজনৈতিক অঙ্ক কষা, জল্পনা ও সমীকরণের হিসাব। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ অসমের বহু প্রত্যাশিত বরাক উপত্যকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *