মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ জুলাই : অসম-ত্রিপুরা সংযোগকারী ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের ব্যস্ততম আছিমগঞ্জ গেট এখন নিত্যদিনের তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি, বিকট হর্ন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা যেন এখানকার নিয়মিত চিত্র। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আছিমগঞ্জ বাজার জাতীয় সড়কের পাশাপাশি কাজিরবাজার–রামকৃষ্ণনগর পূর্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, তেলবাহী ট্যাঙ্কার, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ছোট একটি মোড় পার হতেও অনেক সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট, কখনও তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় ও অফিস শুরুর সময় থেকে যানজট শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না, অফিসগামীরাও কর্মস্থলে যেতে বিলম্বের শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক সময় রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্সও যানজটে আটকে পড়ছে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, বাজার এলাকায় সড়ক দখল এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবই এই সমস্যার প্রধান কারণ।
ছাত্রনেতা বদরুল হক বলেন, “আছিমগঞ্জ গেট শুধু একটি বাজার নয়, এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। দীর্ঘদিন ধরে যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
এলাকাবাসীর দাবি, স্থায়ী ট্রাফিক পোস্ট স্থাপন, নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট বাসস্টপ চালু এবং বাজার এলাকার সড়ক দখলমুক্ত করা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এখন প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন আছিমগঞ্জবাসী।



