৬ নভেম্বর: একসঙ্গে নিখোঁজ পরিবারের একাধিক সদস্য। তাঁদের সন্ধান পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবারের বউ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও হত্যার শিকার হলেন! স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক, দুই শ্যালিকা এবং সাত বছরের এক শিশুসহ শ্বশুরবাড়ির সাত সদস্যকে খুনের অভিযোগ উঠেছে শেখর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেঙ্গালুরুতে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর দেহগুলি শহরের বিভিন্ন নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর শ্রীরামপুর এলাকার। অভিযুক্ত শেখরের বাড়ি রাজাজিনগর এলাকায়। তাঁর স্ত্রী সুনীতা-সহ পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীতার মা রূপবতী, দুই ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, পরিবারের দুই সদস্য দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীত।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ বছর আগে সুনীতার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শেখরের। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে সুনীতার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই হস্তক্ষেপ করতেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়াতেন।

পুলিশের অনুমান, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের এই ভূমিকা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি শেখর। তাঁদের হস্তক্ষেপের কারণেই তাঁর মনে ক্ষোভ জমতে থাকে। সেই আক্রোশ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিকল্পনা করেই দু’দিনের মধ্যে একে একে সাতজনকে হত্যা করা হয়। প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শেখরের বিরুদ্ধে। এরপর শাশুড়ি রূপবতীকেও হত্যা করা হয় বলে সন্দেহ। পরে দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে পার্টির অজুহাতে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান অভিযুক্ত। তাঁরা সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁদেরও হত্যা করা হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান। একইভাবে দিব্যা, নলিনী এবং সাত বছরের শিশু পুনীতকেও খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহগুলি গাড়িতে করে বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে চিক্কাবল্লাপুর জেলার বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পর্যটনকেন্দ্র নন্দী হিলসের কাছে সাত বছরের পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি ছ’জনের দেহের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যে অভিযুক্তের গাড়ির গতিবিধি, দেহ ফেলে দেওয়ার সম্ভাব্য স্থান এবং ফরেন্সিক তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।



