গরু চুরির সন্দেহে নৃশংস ‘মোরাল পুলিশিং’! মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিন যুবক, পাথারকান্দিতে চাঞ্চল্য

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ জুন : গরু চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে পাথারকান্দিতে সংঘটিত এক নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া একটি গরুর খোঁজে বের হওয়া তিন যুবককে গরু চোর সন্দেহে আটক করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এয়ারগান দিয়ে গুলি করার অভিযোগও উঠেছে। গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে দুই যুবক বর্তমানে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাথারকান্দি থানার অন্তর্গত মামবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হাজিরা বেগমের একটি গরু গত ১ জুন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়ে যায়। গরুটির সন্ধানে হাজিরা বেগমের ছেলে জিলাল আহমেদ, দেওরের ছেলে আমির হুসেন এবং ননদের ছেলে ইসলাম উদ্দিন আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তারা নালুগাঁও মণিপুরী বস্তি এলাকায় পৌঁছান।

অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের গরু চোর সন্দেহে আটক করে। এরপর শুরু হয় মারধর ও নির্যাতন। আহতদের পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তারাও হামলার মুখে পড়েন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পাথারকান্দি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পাথারকান্দি অসামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাদের করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গুরুতর আহত আমির হোসেন ও ইসলাম উদ্দিনকে পরবর্তীতে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে এক যুবককে বন্দুক সদৃশ বস্তু হাতে দেখা যায়। আহতদের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের একজন এয়ারগান থেকে গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে দুই যুবক গুরুতরভাবে জখম হন।

ঘটনার তিন দিন পর পাথারকান্দি থানায় দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মামলায় নালুগাঁও এলাকার শ্যামল সিনহা, প্রমেশ সিনহা, বামবল সিনহা, ছেতই সিনহা ও লাকি সিনহাসহ মোট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাথারকান্দি থানার ওসি মানস জ্যোতি বরার নেতৃত্বে ৭০/২০২৬ নম্বর মামলা রুজু করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথারকান্দি সমজেলা পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জোরদার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মতে, কেবলমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে আহত দুই যুবকের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রয়েছে সমগ্র এলাকার মানুষের। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *