শ্রীভূমিতে ‘চেতনার ১৯’ : ভাষা শহিদদের স্মরণে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ মে : মাতৃভাষার মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করে শ্রীভূমিতে ‘চেতনার ১৯’ উপলক্ষে ১৭, ১৮ ও ১৯ মে তিনদিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা চেতনা জাগ্রত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

মাতৃভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সেনানী সতু রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে জীবন্ত রাখতে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর কথায়, ১৯৬১ সালের আন্দোলন শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাই শুধু ১৯ মে নয়, সারা বছরই ভাষা চেতনা হৃদয়ে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সূচনায় সুলেখা দত্ত চৌধুরীর পৌরহিত্যে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অরূপ রায় ও আর্চনা দত্ত তিনদিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, এবারের আয়োজনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা দিককে গুরুত্ব দিয়ে এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সব বয়সের মানুষ অংশ নিতে পারেন।
১৭ মে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হবে অঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। শিশু-কিশোররা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনাকে নিজেদের সৃজনশীলতায় তুলে ধরবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে এক আলোচনা সভা, যেখানে বিশিষ্টজনেরা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। সন্ধ্যায় থাকবে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৮ মে ‘উনিশের পথ চলা’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শম্ভু সাগর উদ্যানের জাতীয় শহিদ বেদী প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এই পদযাত্রা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ অতিক্রম করে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে গিয়ে শেষ হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

১৯ মে, ভাষা শহিদ দিবসে শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে স্মরণ করা হবে সেইসব মহান আত্মত্যাগীদের, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি।

আয়োজকদের মতে, এই তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভাষার প্রতি ভালোবাসা, ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ আরও সফল হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *