উমরাংশুতে সিমেন্ট শিল্প, ‘প্রজেক্ট কামাক্ষী’র ভূমিপূজন হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ অক্টোবর : ডিমা হাসাও জেলার শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে উমরাংশুর ১৯ কিলোতে গড়ে উঠতে চলেছে জে কে লক্ষ্মী সিমেন্ট লিমিটেডের বৃহৎ সমন্বিত সিমেন্ট কারখানা। শুক্রবার সংস্থার ‘প্রজেক্ট কামাক্ষী’র ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসমে এই প্রথম বিনিয়োগ করতে চলেছে সংস্থাটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জেলায় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রসারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী বিমল বরা, ডিমা হাসাও স্বশাসিত পার্বত্য পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা এবং জে কে লক্ষ্মী সিমেন্টের চেয়ারপার্সন ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিনীতা সিংহানিয়া-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে ডিমাসা ও কার্বি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হয়। সংস্থার প্রেসিডেন্ট ও ডিরেক্টর ড. অরুণ শুক্লা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত কারখানায় বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন সিমেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।

‘অ্যাডভান্টেজ অসম’-এর মাধ্যমে রাজ্যে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল। এর মধ্যে গত দু’বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রয়্যালটি বণ্টন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির ৬০ শতাংশ সরাসরি ডিমা হাসাও স্বশাসিত পার্বত্য পরিষদ পাবে। প্রতি ১০০ টাকা রয়্যালটির মধ্যে ৬০ টাকা পরিষদের প্রাপ্য হবে এবং ওই অর্থের উপর কোনও কর ধার্য হবে না। বাকি ৪০ শতাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় ও করের দায়িত্ব থাকবে রাজ্য সরকারের। জেলায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে বছরে কত পরিমাণ রয়্যালটি আদায় হতে পারে, তা জানিয়ে পরিষদকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কারখানাকে কেন্দ্র করে পরিবহণ, দোকানপাট ও অন্যান্য সহযোগী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এর ফলে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়বে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি উমরাংশুর পর্যটন বিকাশেও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দাদের হোমস্টে, পরিবেশবান্ধব হোটেল ও রিসর্ট গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতিকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাসিন্দাদের সরাসরি অংশগ্রহণের উপর জোর দেন। পাশাপাশি উমরাংশুতে বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ দিন ডিমা হাসাও জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা জমি খোঁজার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। জেকে লক্ষ্মী সিমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, উমরাংশুর এই বৃহৎ শিল্পপ্রকল্প ডিমা হাসাওয়ের অর্থনীতি, রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *