হিন্দুস্তান ক্লাবের দশমীর ঘটনার  সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বাঙালি নবনির্মাণ সেনার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৮ অক্টোবর : হিন্দুস্তান ক্লাবের দশমীর বিসর্জন অনুষ্ঠানে বিহু শিল্পীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একতরফা প্রচার এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বাঙালি সমাজকে অভিযুক্ত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাঙালি নবনির্মাণ সেনা (বিএনএস)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রীতম দেব এক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধের দায় সমগ্র বাঙালি সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে প্রীতম দেব বলেন, বিহু শিল্পীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেকোনও ধরনের হামলা, মারধর ও শিল্পীদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানায় বিএনএস। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসার আগেই কেন গোটা বাঙালি সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর কিছু অসমীয়া ছাত্র সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেন ঘটনাটি বাঙালি ও অসমীয়া সমাজের মধ্যে সংঘর্ষ। এ ধরনের প্রচার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

AASU-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রীতম দেব বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। তবে প্রতিবাদের ভাষায় কোনও জনগোষ্ঠীকে অপমান করা, হুমকি দেওয়া কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করা উচিত নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনই তদন্তের আগেই একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও অনুচিত।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পুলিশি তদন্তে সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। কথাকাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এবং এখনও পর্যন্ত ঘটনাটিতে বাঙালি-অসমীয়া বিরোধ বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে তদন্ত এখনও চলছে।

বিএনএস স্পষ্ট করেছে, কোনও বাঙালি যুবকের অপরাধকে যেমন তারা সমর্থন করে না, তেমনই কোনও বিহু শিল্পী বা অসমীয়া নাগরিকের ওপর হামলাকেও সমর্থন করে না। দোষী যে-ই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কয়েকজনের অপরাধের জন্য কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ও সমস্ত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা চিহ্নিতকরণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে জনগোষ্ঠীকে হুমকি দেওয়া কিংবা অপমানজনক বক্তব্য রাখার অভিযোগ থাকলে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে প্রীতম দেব বলেন, অসম ও বরাক উপত্যকা কোনও একটি জনগোষ্ঠীর একার নয়। বাঙালি ও অসমীয়া উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরই সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রয়েছে। সংঘাত ও বিভাজনের পরিবর্তে ন্যায়বিচার, সম্প্রীতি এবং মর্যাদার সঙ্গে সহাবস্থানই হওয়া উচিত সকলের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *