মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ অক্টোবর : মাদকাসক্তির ভয়াবহ ছোবলে ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে সমাজের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেশার প্রবণতা রুখতে প্রয়োজন সময়োপযোগী সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। আগামী প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করে একটি সুস্থ, সুন্দর ও শক্তিশালী সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই নেশামুক্ত ভারত অভিযানের অধীনে বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করল বাজারিছড়া পুলিশ। রবিবার শিবেরগুল মহাবীর পাবলিক এইচএস স্কুল প্রাঙ্গণে বাজারিছড়া থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক সচেতনতা সভায় পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাদকবিরোধী জোরালো বার্তা তুলে ধরা হয়।
এদিনের সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন করে তোলা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি সমজেলার পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা, বাজারিছড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খনিন্দ্র নাথ, বাজারিছড়া নাগরিক কমিটির চেয়ারম্যান হৃষিকেশ নন্দী, লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন দাস, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুলসংখ্যক পড়ুয়া।সভায় বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণতি এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁদের কথায়, আজকের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ তাঁদের হাতেই নিহিত। তাই এই তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সবল এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কোনওভাবেই যাতে মাদকের বিষাক্ত প্রভাব তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রত্যেককে এখন থেকেই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনকেই ধ্বংস করে না, এর ভয়াবহ প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবার ও সমাজের ওপর।
নেশার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং কর্মজীবনেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ মাদকের কবলে পড়ে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলে। তাই মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইকে কেবল প্রশাসন বা পুলিশের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।তাঁরা অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তান ও পড়ুয়াদের গতিবিধির প্রতি নজর রাখার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কোনও যুবক বা পড়ুয়া নেশার পথে পা বাড়ালে তাকে অবহেলা বা দূরে সরিয়ে না রেখে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।বক্তাদের মতে, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে সচেতনতাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। শুধু সভা-সমিতিতে বক্তব্য রাখলেই চলবে না, মাদকবিরোধী ইতিবাচক বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, সামাজিক সংগঠন এবং যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই গড়ে তুলতে হবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন।এদিনের সচেতনতা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নেশামুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসবেন। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভার মূল বার্তা তুলে ধরা হয়।



