শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের উজ্জ্বল হল অসমের নাম। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে দেশের পাশাপাশি বরাক উপত্যকার জন্যও গৌরব বয়ে আনলেন চিকিৎসক ও গবেষক ডাঃ অস্মিতা শুক্লা। সম্মেলনে নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপনের পর তাঁর গবেষণা ও উপস্থাপনার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
থাইমোমা-সম্পর্কিত মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা নিয়ে গবেষণা করেন ডাঃ অস্মিতা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল – ‘থাইমোমা-সম্পর্কিত মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা – ডিজিটাল ইমেজ বিশ্লেষণ-সহায়িত ক্লিনিকোপ্যাথলজিক্যাল স্টাডি’। সম্মেলনে গবেষণাটির বিভিন্ন দিক ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নজর কাড়ে এবং পরবর্তীতে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।

জানা গেছে, ওই সম্মেলনে ভারত থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন ডাঃ অস্মিতা। ফিলিপাইনস, জর্ডান, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল ও চিন থেকেও চিকিৎসক ও গবেষকরা সম্মেলনে যোগ দেন এবং তাঁদের গবেষণার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হন। চিকিৎসা ও গবেষণাক্ষেত্রে ডাঃ অস্মিতার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য। ২০২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ২০২৫ সালে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) থেকে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর এমডি-পরবর্তী সুপার স্পেশালিটি অনকোলজি কোর্সে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
শুধু উচ্চশিক্ষায় নয়, স্কুলজীবন থেকেই মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন ডাঃ অস্মিতা। শিলচরের সেন্ট ক্যাপিটানিয়ো স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং মহর্ষি বিদ্যামন্দির থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে শিলচর শহরের বাসিন্দা হলেও ডাঃ অস্মিতার পৈতৃক নিবাস শ্রীভূমি জেলার মস্কিপুর গ্রামে। তিনি শিলচর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ আশুতোষ শুক্লবৈদ্য ও উৎপলা শুক্লবৈদ্যের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
সিউলের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই স্বীকৃতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীভূমি থেকে বরাক উপত্যকা – সর্বত্র আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মস্কিপুরের বাসিন্দাদের কাছেও এই সাফল্য বিশেষ গর্বের। আন্তর্জাতিক পরিসরে শ্রীভূমির এক কন্যার এই অর্জন আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, ভারত থেকে একমাত্র ডাঃ অস্মিতা এই সম্মেলনে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ফিলিপাইনস, জর্ডান, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল এবং চিনের চিকিৎসকরাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন গবেষণার উপর পুরস্কার পান।



