বেহাল দশা পাথারকান্দি দক্ষিণ রেলওয়ে গেট সড়ক, দুর্ভোগ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ১৯ এপ্রিল : শ্রীভূমি জেলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ পাথারকান্দির দক্ষিণ রেলওয়ে গেট সংলগ্ন সড়কের বেহাল অবস্থা এখন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় উদাসীনতা এবং সংস্কারের অভাবে অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ক্রসিংয়ের দু’ধারের রাস্তা কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন, যাত্রীবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী এবং সাধারণ পথচারীরা এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা যে, যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রেলওয়ে গেটের দু’পাশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে রাস্তার পিচ, ভেঙে পড়েছে সড়কের মূল কাঠামো। ফলে চলাচল এখন শুধু কষ্টকরই নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেল বিভাগ এবং প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, যেন ভাতঘুমে মগ্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। প্রতিদিন মানুষ দুর্ভোগে পড়লেও যেন দেখার কেউ নেই।বিশেষ করে বর্ষার আগে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্থানীয়দের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা শুরু হলে এই বড় বড় গর্তগুলো পুকুরের মতো জল জমে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে কিংবা বৃষ্টির সময় এই অংশ দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দু’চাকা ও তিনচাকার যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং ছোট গাড়ি এই গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীরা আহতও হচ্ছেন। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই, যেন বড় বড় গর্তের উপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলতে হয়। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়কের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এমন অবস্থা সত্যিই লজ্জাজনক। প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য সংস্কার করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অবহেলা চলতে থাকায় পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অস্থায়ী মেরামতের বদলে স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *