বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুন : অম্বুবাচী মেলার পবিত্র আবহে নীলাচল পাহাড়ের মহাপীঠ মা কামাখ্যা মন্দিরে উপস্থিত হয়ে রাজ্যবাসীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করলেন অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বরাক ও পার্বত্য এলাকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে গিয়ে তিনি মা কামাখ্যার শ্রীচরণে প্রণাম নিবেদন করেন এবং রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ, সম্প্রীতি ও উন্নতির জন্য পূজা-অর্চনা করেন। অম্বুবাচী মেলাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষাধিক ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রীর উপস্থিতিতে মুখরিত নীলাচল পাহাড়ে মন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
পূজা শেষে মন্ত্রী বলেন, “মা কামাখ্যা শুধু অসমের নয়, সমগ্র দেশের কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তির কেন্দ্র। এই পুণ্যক্ষণে আমি রাজ্যের শান্তি, সৌহার্দ্য ও সর্বস্তরের মানুষের মঙ্গল কামনা করেছি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হোক, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।
মন্ত্রী তাঁর প্রার্থনায় যুবসমাজের উন্নতি, শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, তরুণরাই আগামী দিনের অসম গড়ার প্রধান শক্তি এবং তাদের সঠিক দিশা ও সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্ত্রীর এই কামাখ্যা দর্শন ও রাজ্যবাসীর কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই একে জনকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন।

অম্বুবাচী মেলা প্রসঙ্গে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও তন্ত্রসাধনার এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা বহন করে আসছে।



