জলাভূমি, জীবিকা ও সমাজ নিয়ে শনবিলে সেমিনার আয়োজিত আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই : বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে গবেষণাকে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অভিনব উদ্যোগ নিল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি জেলার শনবিলের মৌকম কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে এনইসি ও ডোনার মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত হল একদিনের জাতীয় সেমিনার। বিষয় ছিল ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের জলাভূমি, জীবিকা ও সমাজ’।

এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মানবেন্দ্র দত্তচৌধুরী। তিনি বলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থের উদ্যোগেই শনবিল আজ জাতীয় পর্যায়ে পর্যটনের মানচিত্রে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। তিনি জানান, মধ্য অসমেও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ। তিনি শনবিলকে বরাক উপত্যকার পর্যটনের ‘মুকুটের রত্ন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেমিসাল বরাক’ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল শনবিলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রয়াস আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সুদীপ্ত রায় গবেষণার ফলাফল মানুষের কাজে লাগানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন পরিবেশবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জয়শ্রী রাউথ। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন ড. জয়শ্রী দে ও  ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন গবেষক অনিমেষ হাজারিকা। এদিন দুটি কারিগরি অধিবেশনও আয়োজিত হয়।

সেমিনারে অধ্যাপক অরুণজ্যোতি নাথ কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত শনবিল বিষয়ক দুই বছরব্যাপী গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। এই গবেষণা পরিচালনায় তাঁকে সহায়তা করেন অধ্যাপক সঞ্জীব সাক্সেনা ও ড. অদিতি নাথ। গবেষণায় শনবিলের জীববৈচিত্র্য, জলবায়ুগত উপাদান, মাটির গুণমান, বাস্তুতন্ত্র, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন, বৃক্ষ আচ্ছাদন, ভূমিক্ষয়ের হার, বাস্তুতান্ত্রিক সেবার অর্থনৈতিক মূল্য এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *