বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ৬, রিমান্ডে মূল দুই অভিযুক্ত

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ আগস্ট :
বাজারিছড়ায় বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ কুমার ধরকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে বাজারিছড়া পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে আব্দুল হক ও ত্রিপুরার দামছড়ার সুনাম উদ্দিনকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনার রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁদের পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত অন্য চারজন হল ছাগলমোহা গ্রামের আব্দুল সালাম ও সফিক আলি এবং কালাছড়ার আব্দুল আহাদ ও সিফত আলি। পুলিশ মনে করছে, মূল অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে বিকাশ ধরকে কেন টার্গেট করা হয়েছিল, কারা হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

গত ১২ আগস্ট বুধবার আচমকাই নিখোঁজ হন বিকাশ ধর। পরিবারের দাবি, অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবার বাজারিছড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে।
এরপর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস ও CDR বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল হকসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে লোয়াইরপোয়া জিপির ছবড়ি ও যোগিছড়ার মধ্যবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় একটি টিলার পাশ থেকে বিকাশ ধরের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় আব্দুল হক পুলিশের ওপর হামলা করে পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালাতে হয়। এতে আব্দুল হক আহত হন এবং একজন পুলিশ কর্মীও আহত হন। পরে আহত অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে BNS-এর ১৬৩ ধারাও জারি করা হয়। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার রাতে পরিবারের হাতে মরদেহ তুলে দেওয়া হয় এবং সেদিনই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, একটি গ্রাম্য বিচারসভাকে কেন্দ্র করে বিকাশ ধর মূল অভিযুক্ত আব্দুল হকের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন। পরে সুনাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

এখন মূল দুই অভিযুক্তের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেই তদন্তকারীদের নজর। হত্যার পরিকল্পনা, বিকাশকে ডেকে নেওয়া, হত্যাস্থল, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে বাজারিছড়া ও শ্রীভূমির মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *