শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ জুলাই : দীর্ঘ এক বছরের আইনি টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত গৌহাটি হাইকোর্টের নির্দেশে কাছাড় জেলার বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৯৩ নম্বর বুড়িবাইল গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী অন্নপূর্ণা পাল তাঁর পদ হারালেন। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত আইন অনুসারে নতুন করে প্রথম সভা আয়োজন করে বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস বরুয়ার একক বেঞ্চ গত ২৮ জুলাই জারি করা নির্দেশে জানায়, আগামী ১১ আগস্ট সকাল ১১টায় বড়খলা আঞ্চলিক পঞ্চায়েত কার্যালয়ে নতুন করে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের জন্য কাছাড়ের জেলা কমিশনারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ জুলাই বুড়িবাইল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেই সভার বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। চারজন নির্বাচিত সদস্য—ছায়না বেগম বড়ভূইয়া, জিলি বেগম বড়ভূইয়া, সাবিনা বেগম বড়ভূইয়া এবং ওয়াহিদা বেগম বড়ভূঁইয়া—প্রথম সভা পঞ্চায়েত আইনের পরিপন্থীভাবে আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে গৌহাটি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
মামলায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের প্রধান সচিব, বিভাগের কমিশনার, কাছাড়ের জেলা কমিশনার, জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক, বড়খলার বিডিও-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিককে পক্ষ করা হয়। মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী এসবি লস্কর। অপরদিকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সরকারি আইনজীবী এইচ. শর্মা, স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল এস. দত্ত এবং আইনজীবী এসপি চৌধুরী।
আদালতে মামলাকারীদের দাবি ছিল, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই প্রথম সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টায়। কিন্তু নির্ধারিত প্রিসাইডিং অফিসার উপস্থিত না থাকায় সভাটি বাতিল করা হয়। এরপর একই দিন জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকের নির্দেশে দুপুর ২টায় পুনরায় সভা ডাকা হয়। অভিযোগ, এই নতুন সভার জন্য পঞ্চায়েত আইনে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কোনও লিখিত নোটিশ জারি করা হয়নি। ফলে চারজন সদস্য সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি এবং মাত্র ছয়জন সদস্যকে নিয়ে সভা সম্পন্ন করে সভানেত্রী নির্বাচন করা হয়।
মামলাকারীদের আরও বক্তব্য ছিল, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী প্রথম সভা আহ্বানের ক্ষমতা জেলা কমিশনার অথবা মহকুমা শাসকের। সভার অন্তত পক্ষকাল আগে তারিখ নির্ধারণ এবং কমপক্ষে সাত দিন আগে সদস্যদের লিখিত নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আইনের সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি।
শুনানিকালে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আদালত পূর্ববর্তী সভার ভিত্তিতে গঠিত বোর্ডের বৈধতা কার্যত বাতিল করে নতুন করে আইন মেনে প্রথম সভা আয়োজনের নির্দেশ দেয়। আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় বর্তমান সভানেত্রী অন্নপূর্ণা পালের দায়িত্বও অবসান ঘটল।
রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্নপূর্ণা পাল ভারতীয় জনতা পার্টির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর ভাসুর মদনমোহন পালও বিজেপির মণ্ডল পর্যায়ের নেতা। ফলে আদালতের এই নির্দেশ বুড়িবাইল গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বড়খলা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



