বরাক তরঙ্গ, ১৫ সেপ্টেম্বর : তামেংলং ও সংলগ্ন জেলার সীমান্তবর্তী লেইসাংফাই কুকি গ্রামে, যা মুক্তোখাল নামেও পরিচিত, সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় দুই কুকি-জো মহিলা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় একাধিক কৃষিঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে গ্রামজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ মহিলারা নিজেদের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় চোঙ্গা সিতলহৌ (৬০) এবং কিমবোই সিংসন (৩০) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। চোঙ্গা সিতলহৌ লেইসাং গ্রামের প্রয়াত সেইদৌ সিতলহৌর স্ত্রী। তিনি নিজের জমিতে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিলেন। অন্যদিকে, কিমবোই সিংসন ছিলেন সদ্য নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা তরুণী। মাকে কৃষিকাজে সহায়তা করতে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। একই এলাকায় তাঁকেও গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত দু’জনই ছিলেন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি এলাকায় একাধিক কৃষিঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর ফলে শুধু প্রাণহানি নয়, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও জীবিকাকেও ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মাঠে কাজ করতে যাওয়া আরও কয়েকজন গ্রামবাসী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।
ক্রমাগত বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি সত্ত্বেও পরিবারগুলিকে দূরবর্তী কৃষিজমিতে যেতে হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সম্প্রদায়ের নেতারা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরকারি তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে পারেন। টোলেন, লংপি ও এবার লেইসাং—পরপর হামলার ঘটনায় vulnerable এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে।



