বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর : উত্তর-পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোককথা ও প্রাচীন কারুশিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং বিশ্বের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো পাঁচ দিনের জাতীয় কর্মশালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যকলা বিভাগ ও ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ভারতীয় সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (আইসিএসএসআর) আর্থিক সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল বিষয় ‘ঐতিহ্য থেকে গতিশীলতা: উত্তর-পূর্ব ভারতের কারুশিল্প ও লোককথাকে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণজ্ঞাপন বিভাগের হুরমত আলি বড়লস্কর সেমিনার হলে এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্টাডিজের ডিন তথা দৃশ্যকলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নির্মল কান্তি রায়, ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের ডিরেক্টর অধ্যাপক এম গঙ্গাভূষণ, আইকিউএসি’র ডিরেক্টর অধ্যাপক পীযূষ পাণ্ডে, ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সেলের ডিরেক্টর অধ্যাপক দেবমাল্য ঘোষ, গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চার্বাক এবং দৃশ্যকলা বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক রুমা শর্মা।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ কর্মশালার আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্য, ড. বরুণ সাহাই, ড. অনুপ রত্ন, ড. অভিজিৎ পদুম, ড. রাজকুমার মাজিন্দার এবং ড. রাজন কুমার বৈদ্যকে সংবর্ধনা জানান। বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য কর্মশালার অভিনব বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক সৃজনশীল চর্চা ও সমসাময়িক ডিজিটাল দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক নির্মল কান্তি রায়।
কর্মশালায় দৃশ্যকলা, গণজ্ঞাপন ও পারফর্মিং আর্টস বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি গবেষক এবং প্রাক্তনী মিলিয়ে ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের ১৫টি দলে ভাগ করে অভিজ্ঞ অ্যানিমেশন শিল্পী ও শিক্ষাবিদদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন লোককথা এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর চিত্রনাট্য তৈরির কাজ করানো হয়। এই পর্বে অংশগ্রহণকারীদের কেউ স্থানীয় ঐতিহ্য নৌকা পূজা নিয়ে কাজ করেন, আবার কেউ ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচরের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে কেন্দ্র করে কাহিনি নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

কর্মশালার সমন্বয়ক ড. গৌতম দত্ত জানান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অ্যানিমেশন ও ডিজিটাল গল্প বলার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ভারতের অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিকস ও এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি (এভিজিসি-এক্সআর) সংক্রান্ত জাতীয় নীতি এবং অসমে এই ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে দৃশ্যকলা বিভাগে সংশ্লিষ্ট পাঠক্রম ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যানিমেশনের মাধ্যমে স্থানীয় লোককথা ও ঐতিহ্যকে নথিবদ্ধ করা, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তার সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।



