
বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর : শিলচর কলেজিয়েট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান মর্যাদা ও স্বতন্ত্র পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কোনও অবস্থাতেই বিদ্যালয়টিকে অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর না করার দাবিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শিলচর কলেজিয়েট স্কুল অ্যালামুনি অ্যাসোসিয়েশন। কাছাড়ের জেলা কমিশনারের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পাঠিয়ে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখতে মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংগঠনের সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, শিলচর কলেজিয়েট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বরাক উপত্যকা তথা সমগ্র অসমের গর্ব ও আবেগের প্রতীক। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাগত ফলাফল এবং সহপাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে বহু প্রাক্তন ছাত্র বর্তমানে দেশ-বিদেশে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক আধিকারিক, শিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সাফল্যের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ওয়াই. বিশাল সিংহার নামও জড়িয়ে রয়েছে। তিনি ইসরোর দলের সদস্য হিসেবে দেশের গৌরব বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।

প্রতিনিধিদের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে। বর্তমানে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায় ও ভাষার প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। ফলে বিদ্যালয়টি ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব অন্য কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যালয়টি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই এর প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা নেই। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়ে কোনও পরিবর্তন আনা হলে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারীদের পাশাপাশি বরাক উপত্যকার অসংখ্য মানুষের আবেগে আঘাত লাগবে। বিদ্যালয়ের ৫২ বছরের ঐতিহ্য, স্বায়ত্তশাসন ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসএমডিসি)-কে কাছাড় জেলা প্রশাসনের অধীনেই রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যোগ্যতার নিরিখে শিলচর কলেজিয়েট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বরাক উপত্যকার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব আধুনিক ও সুসজ্জিত ভবন, অনুমোদিত জমি এবং সুরক্ষিত সীমানাপ্রাচীর বিদ্যালয়টির পরিকাঠামোগত শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষাগত সাফল্য বিদ্যালয়টিকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র মর্যাদা বজায় রাখার দাবিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থান ও প্রশাসনিক পরিচয় সংরক্ষণ করা হলে হাজার হাজার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষী কৃতজ্ঞ থাকবেন।
এদিকে, শিলচর কলেজিয়েট স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. রাজীব গুপ্ত, সহ-সভাপতি সঞ্জীব রায় এবং যুগ্ম সম্পাদক প্রিয়ম চৌধুরী ও ধৃতি সুন্দর পাল কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা কমিশনার ডেভিড কুমার বোরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পরে প্রতিনিধি দলটি কাছাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সঙ্গেও জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপির একটি অনুলিপি প্রদান করে।
এছাড়া স্মারকলিপির অনুলিপি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগু, মন্ত্রী কৌশিক রায়, শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, মাধ্যমিক শিক্ষা সঞ্চালক, কাছাড়ের জেলা কমিশনার, বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং শিলচর কলেজিয়েট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছেও পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানানো হয়েছে।



