
বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর : দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত ২৩ অক্টোবর শ্রীভূমিতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’। ঘটনার পরদিন প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। অসমের জাতীয় উৎসব বিহুর সঙ্গে এ রাজ্যের বাঙালির আবেগ ও প্রাণের স্পন্দন একাত্ম হয়ে রয়েছে। ফলে বিহু-সংস্কৃতির অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিল সাহিত্য সভা।
সেই অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেও, পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে আসা একাধিক তথ্য ও শোভাযাত্রার বিষদ বিবরণ পর্যবেক্ষণ করে বাংলা সাহিত্য সভা মনে করে—ঘটনাটির দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

জানা গেছে, আয়োজক সংস্থা ‘ক্লাব হিন্দুস্থান’ তাদের প্যান্ডেল সাজিয়েছিল কলাগুরু বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা, ভারতরত্ন ভূপেন হাজরিকা এবং অসমের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের বিশাল প্রতিকৃতি দিয়ে। সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের বার্তা দিতে পূজা কমিটি বিভিন্ন ভাষাভাষীর সংগীত ও বর্ণাঢ্য নৃুত্যের শোভাযাত্রার আয়োজন করে। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শহর পরিক্রমা শেষে বিসর্জন ঘাটে পৌঁছানোর পরেই মূল গণ্ডগোল ও মারপিটের সূচনা হয়।
সংগঠনের মতে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সংস্কৃতির অপমানের বিষয়টি জড়িত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির দৃশ্য দেখা গেছে। শ্রীভূমির সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলে প্রাথমিক তদন্তের পর সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনাটি অত্যধিক মদ্যপানজনিত গোলমালের ফল, এর সঙ্গে বিহু-বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক নেই। বিহু নৃত্য পরিবেশনের জন্যই পূজা কমিটি শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তা সফলভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে আংশিক ও অসম্পূর্ণ ভিডিও প্রচারের জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং রাজ্যের দুই প্রধান ভাষিক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’ এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উভয় পক্ষেরই প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর রাজ্য সহকারী সাধারণ সম্পাদক (বরাক) সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ এবং শ্রীভূমি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শুভ্রাংশু প্রকাশ দে। একই সঙ্গে কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যাতে পুলিশি হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।



