৭ নভেম্বর : ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দ্বীপটিতে ইরানের একটি ছোট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শনিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, প্রাথমিক প্রতিবেদনে কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে সমঝোতার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠা ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে দোহা।

শনিবার কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রচারিত খবরকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যদিও এই দাবির সত্যতা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এর আগে শুক্রবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে সেই দাবিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা।



