৬ নভেম্বর : জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি স্থবিরতা এবং সরকারি পরিষেবায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি স্থানে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। দিনভর বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৩ জন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ। যদিও শ্রমিক সংগঠন সিজিটি (CGT)-এর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লক্ষ ৭৩ হাজারেরও বেশি। রাজধানী প্যারিসে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৬৫ হাজার মানুষ মিছিলে শামিল হন। অন্যদিকে সিজিটির দাবি, সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী।

বিক্ষোভের পাশাপাশি ধর্মঘটের প্রভাবও পড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে শামিল হন। জ্বালানি ক্ষেত্রের ধর্মঘটের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার প্যারিসের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখা হয়।
এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এবং রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসম্যানসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক অসন্তোষ ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ৯ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সামাজিক সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। ওই বৈঠকে মজুরি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই ব্যাপক বিক্ষোভ ও বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ফ্রান্সের গভীরতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। সরকারের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির আসন্ন বৈঠকে এই অসন্তোষ প্রশমনে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম



