স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে জেলা আয়ুক্তের আকস্মিক পরিদর্শন, তিন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিষেবা খতিয়ে দেখলেন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই :
জেলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার আকস্মিকভাবে জেলার তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী। পরিদর্শনের আওতায় ছিল এমজি মডেল হাসপাতাল, দুল্লভছড়া, চরগোলা মডেল হাসপাতাল এবং পাথারকান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (পিএইচসি)।

পরিদর্শনের সময় জেলা আয়ুক্ত হাসপাতালগুলির বহির্বিভাগ (ওপিডি), অন্তর্বিভাগ (আইপিডি), জরুরি পরিষেবা, প্রসূতি ও মাতৃসেবা ইউনিট, ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র, পরীক্ষাগার, টিকাকরণ পরিষেবা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি রোগীদের জন্য উপলব্ধ চিকিৎসা পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবার মানও তিনি খতিয়ে দেখেন। জেলা আয়ুক্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে সরাসরি মতামত নেন।

এছাড়া চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে রোগী পরিষেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রদীপকুমার দ্বিবেদী বলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করতে হলে সময়মতো চিকিৎসা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং আন্তরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি বা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা পান, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত পরিদর্শন, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেলা আয়ুক্তের এই আকস্মিক পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন রোগী, তাঁদের পরিজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এমন নিয়মিত নজরদারি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিষেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *