মিছামারিতে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ আগস্ট : মিছামারিতে বলবম যাত্রায় যাওয়ার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল এক চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর। ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মিছামারির বিকামারি গ্রামের আশা কর্মকার (১৯) এবং নবম শ্রেণির ছাত্রী নিকিতা কুমারী (১৭)।

জানা গেছে, রবিবার রাতে প্রায় সাড়ে ৯টা নাগাদ আশা কর্মকার ও নিকিতা কুমারী বলবমের পোশাক পরে দীঘলজুলি গ্রামের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসা AS-12-AP-9132 নম্বরের একটি পালসার মোটরসাইকেল তাঁদের দু’জনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় দু’জনই গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, মৃত আশা কর্মকার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটির চালক গরবন্ধার রমেন বড়োও গুরুতর আহত হন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মিছামারির গরবন্ধা রাজ্য হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত নিকিতা কুমারীকে চিকিৎসার জন্য গরবন্ধা রাজ্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জরুরি পরিষেবার অভাবে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নামেই গরবন্ধা একটি ‘মডেল’ হাসপাতাল। বাস্তবে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এখনও একাধিক সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

একটি গুরুতর পথ দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু গরবন্ধা রাজ্যিক হাসপাতালে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কোনও হাসপাতালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া এবং উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাই যদি না থাকে, তাহলে সেই হাসপাতালকে ‘মডেল হাসপাতাল’ হিসেবে চিহ্নিত করার যৌক্তিকতা কতটা?

অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংঘালের নিজ জেলাতেই একটি সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গরবন্ধা রাজ্যিক হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও এক কিশোরী ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এখন দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *