বরাক তরঙ্গ, ২৭ আগস্ট : কাছাড় জেলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিষেবায় যুক্ত হল এক নতুন দিগন্ত। মহিলাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও প্রত্যাবর্তনযোগ্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি হিসেবে চালু করা হয়েছে সিঙ্গল-রড সাবডার্মাল কনট্রাসেপটিভ ইমপ্ল্যান্ট। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ রোধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বুধবার শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, এসএম দেব সিভিল হাসপাতাল এবং শিলচরের ছোট মামদা মডেল হাসপাতালে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে এই পরিষেবা সুচনার মাধ্যমে কাছাড় অসমের সাম্প্রতিকতম জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে যুক্ত হল। ইতিমধ্যেই কামরূপ মেট্রো, বরপেটা, শোণিতপুর, ধুবড়ি এবং ডিব্রুগড় জেলায় এই পরিষেবা চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্বকের নিচে স্থাপন করা এই ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতি সেইসব মহিলার জন্য একটি কার্যকর বিকল্প, যাঁরা প্রতিদিন গর্ভনিরোধক গ্রহণের উপর নির্ভর না করে সন্তান ধারণের মধ্যে ব্যবধান বজায় রাখতে অথবা পরিবার পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে চান।
জেলায় ইতিমধ্যে মোট ১১ জন চিকিৎসককে প্রতিস্থাপনের নির্দেশিকা অনুসারে কাউন্সেলিং, ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন এবং পরবর্তী ফলো-আপ পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলার তিনটি প্রধান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত কর্মী উপলব্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য ও প্রত্যাবর্তনযোগ্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী মহিলাদের কাছে পরিষেবাটি আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক ডাঃ সুমনা নাইডিং, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর গুপ্ত, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অলকা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের ডাঃ কিরীটি দে, আইপিএএস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)-এর দিল্লির সিনিয়র স্পেশালিস্ট ও টেকনিক্যাল এক্সিলেন্স ডাঃ পূজা গুপ্ত, আইডিএফ, গুয়াহাটির সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রামস অ্যান্ড ট্রেনিংস) সন্তোষ কুমার মহারাজ, আইডিএফ, গুয়াহাটির স্পেশালিস্ট (প্রোগ্রামস অ্যান্ড ট্রেনিংস) ডাঃ তপনজ্যোতি কলিতা এবং এনএইচএম কাছাড়ের মিডিয়া এক্সপার্ট ডা০ গুলবাহার রাজ।
নতুন এই গর্ভনিরোধক পরিষেবা জেলায় চালু করতে আইপিএএস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত কারিগরি ও কর্মসূচিগত সহায়তার জন্য কাছাড় জেলা স্বাস্থ্য পরিষেবার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, এই সহযোগিতা কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসম্পন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা আরও বলেন, এই পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় গ্রহনকারী ও প্রতিস্থাপনে অবগতদের সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণের আগে উপভোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কাউন্সেলিং প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ অলকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাবডার্মাল ইমপ্ল্যান্ট একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। তিনি উপযুক্ত দম্পতিদের নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ গ্রহণ করে সচেতন ও অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইমপ্ল্যান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে ইচ্ছুক মহিলা ও দম্পতিরা তাঁদের এলাকার এএনএম বা আশা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিকটবর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানান, কাউন্সেলিং, ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন এবং পরবর্তী ফলো-আপ সমগ্র প্রক্রিয়াতেই উপভোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
কাছাড় জেলার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে উপলব্ধ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির তালিকায় নতুন এই পরিষেবা যুক্ত হওয়ায় উপভোক্তাদের সামনে আরও একটি বিকল্প পরিষেবা উন্মুক্ত হল। যেসব মহিলা দৈনিক গর্ভনিরোধক গ্রহণ ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু প্রত্যাবর্তনযোগ্য পদ্ধতিতে সন্তান ধারণের ব্যবধান বজায় রাখতে বা পরিবার পরিকল্পনা করতে চান, তাঁদের জন্য সাবডার্মাল ইমপ্ল্যান্ট একটি অতিরিক্ত ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।



