বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : নগাঁও জেলার কঠিয়াতলীর ১১ মাইল এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। মাত্র ৫০০ টাকাকে কেন্দ্র করে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত গৃহবধূর নাম ইয়াসমিন বেগম। তিনি ডবকার আকাশীগঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী আজিম উদ্দিন পলাতক রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মে সন্ধ্যায় আজিম উদ্দিন একটি ই-রিকশা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি হালধিআটিতে যান স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে। জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। সেদিনও ই-রিকশায় ফেরার পথে ‘রেংবেং’ নামক এলাকা থেকে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসার সৃষ্টি হয়। পরে মাত্র ৫০০ টাকাকে কেন্দ্র করে সেই বচসা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত হয়ে আজিম উদ্দিন চলন্ত ই-রিকশা থেকে ৯ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, পরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে মহিলার পরিবার। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াসমিন বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুটিরও মৃত্যু হয়। শনিবার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ ডবকার আকাশীগঙ্গা কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে কঠিয়াতলী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যদিও মূল অভিযুক্ত আজিম উদ্দিন এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে ফের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার প্রাণহানির ঘটনায় স্তম্ভিত সমগ্র এলাকা।



