১৬ কোটি টাকার বন্যা ত্রাণ নিয়ে উজান অসমের উদ্দেশে রওনা বিজেপির প্রতিনিধি দল

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুলাই : উজান অসমের তিন জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বুধবার থেকে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ত্রাণ অভিযান শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। গত ১৯ জুলাই নাগাল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট অস্বাভাবিক বন্যায় যোরহাট, শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজেপির কর্মীরা দুর্গত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছেন। বুধবার গুয়াহাটির বাজপেয়ী ভবন থেকে চরাইদেউ ও শিবসাগর জেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য দলীয় কর্মীদের অনুদানে সংগৃহীত প্রায় ১৬ কোটি টাকার ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল রওনা দেয়।

শুধু চরাইদেউ ও শিবসাগর নয়, যোরহাট এবং সম্প্রতি বন্যাকবলিত গোলাঘাট জেলাতেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে এই ত্রাণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেখেলা-চাদর, ১ লক্ষ ৮০ হাজার শিশুর টি-শার্ট এবং ১ লক্ষ ৫০ হাজার মশারি।

এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার বন্যা সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটে ফেলেছে। সরকার সব ধরনের সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেরও প্রশংসা করে সকলকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই ত্রাণ তহবিল সম্পূর্ণভাবে বিজেপির কর্মীদের অনুদানে সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়া মুখ্যমন্ত্রীর ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বন্যার প্রথম দিন থেকেই উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে যুক্ত দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি কর্মীদের আহ্বান জানান।

এদিকে, উজান অসমের বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় অসম গণ পরিষদ (অগপ)-এর উদ্যোগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীবাহী গাড়িরও বুধবার দলীয় সভাপতি অতুল বরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্ল্যাগ-অফ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *