বদরপুরে ব্যবসায়ীর চারতলা বাড়িতে পুলিশের ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন অভিযান, বাজেয়াপ্ত বিলাসবহুল গাড়ি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ অক্টোবর : মাদক সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরে শ্রীভূমি জেলার বদরপুরে ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানের চারতলা প্রাসাদোপম বাড়িতে রাতভর ম্যারাথন অভিযান চালাল শ্রীভূমি পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টার এই তল্লাশিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, সাতটি জমির দলিল, কলকাতায় ফ্ল্যাটের তথ্য এবং বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযানে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি ও একটি অটোরিকশা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী।

সাতটি জমির দলিল, কলকাতায় ফ্ল্যাটের তথ্য ও একাধিক সম্পত্তির নথি উদ্ধার; আয়ের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বদরপুর এলাকায় গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানের নাম সামনে আসে। এরপরই তাঁর সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী জিয়াউর রহমানের চারতলা বাড়িতে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ অভিযানে চারটি ওয়াকিটকি, একটি রোলার, একটি জেসিবি মেশিন, তিনটি টিপার, চারটি ট্রাক এবং একটি কন্টেনার ট্রাক সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সাতটি জমির দলিল এবং কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও পুলিশের হাতে এসেছে।

এদিকে, ব্যবসায়ীর সম্পত্তির পরিমাণ ও আয়ের উৎসের মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগেও নিষিদ্ধ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে বর্তমান মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

অভিযান সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে শ্রীভূমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ত্রিনয়ন ভূঁইয়া জানান, শ্রীভূমি পুলিশের ১৪৯/২৬ নম্বর মামলার ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীর আয়ের উৎস ও সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে আটক করার জন্য শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাদক সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বদরপুরজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও সম্পত্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *