লেবানন জ্বলছে: ইজরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসক নিহত, জনগণ অসহনীয় পরিস্থিতিতে

Spread the news

১৪ মার্চ : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইজরায়েলি বিমান হামলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক রয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বুর্জ কালাউইয়া শহরের ক্লিনিকে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। সাওয়ানে আলাদা এক হামলায় আরও দুই প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে। তারা দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ সেতুটি অস্ত্র ও শক্তি বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করছিল।

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত লেবাননকে অবকাঠামোগত ক্ষতির মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, তার দল ইজরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি এটিকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলিরা বড় ধরনের চমকের সম্মুখীন হবে।

গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে আক্রমণ শুরু করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। লেবাননের সাধারণ মানুষ এই সংঘাতের চরম মূল্য দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে আক্রমণ শুরু করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। লেবাননের সাধারণ মানুষ এই সংঘাতের চরম মূল্য দিচ্ছে।

সিডন শহরের কাছে একই পরিবারের চার শিশুসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ঘাঁটিতেও ইসরায়েলি গোলা আঘাত হেনেছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈরুত সফরকালে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছেন, বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এমন হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন। তারা তৎক্ষণাৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক আকার নেবে, যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: এএফপি। খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *