নির্বাচনের প্রাক্কালে ৫,৬৯০ জনকে নিয়োগপত্র প্রদান, পাঁচ বছরে ১,৬৪,৩৫৯টি চাকরির দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ মার্চ : আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার শেষবারের মতো নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির খানাপাড়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ৫,৬৯০ জন প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

জানা গেছে, এই সরকারি চাকরিগুলি মূলত বিদ্যুৎ ও শিক্ষা বিভাগে প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের গত পাঁচ বছরে মোট ১,৬৪,৩৫৯ জন যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি প্রদান করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি আবারও একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। গত পাঁচ বছরে আমি অসমের জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি এবং যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছি। অসমের পূর্ববর্তী কোনো সরকার এত বড় সংখ্যায় নিয়োগ দিতে পারেনি। আগে সরকারগুলো ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে চাকরি দিতে পারত। আমরা ১ লাখ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি চাকরি প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে এটাই নিয়োগপত্র বিতরণের শেষ কর্মসূচি।

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। তাঁর দাবি, আগে Assam Public Service Commission থেকে শুরু করে অঙ্গনওয়াড়ি নিয়োগ পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম ছিল। এমনকি আশা কর্মী বা মধ্যাহ্ন ভোজন প্রকল্পের কর্মীদেরও চাকরি পেতে টাকা দিতে হতো। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নস্তরের চাকরির জন্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা এবং এসিএস বা ডিএসপি পর্যায়ের চাকরির জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে হতো। তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমলে প্রতিটি চাকরিরই একটি নির্দিষ্ট দর ছিল। কংগ্রেসের মন্ত্রী ও বিধায়করা তাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং সরকারি নীতিতে সংস্কার এনে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। তাঁর দাবি, মোট ১,৬৪,৩৫৯টি নিয়োগের মধ্যে একটিও উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি, যা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *