মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১২ জুন : উত্তর করিমগঞ্জের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা এবং করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ফের সরব হলেন এলাকার বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না। বৃহস্পতিবার গৌহাটির আমবাড়িস্থ এনএইচআইডিসিএল-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে রিজিওনাল ম্যানেজার (নির্মাণ) কিষান জাম্বুলকরের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থমূলক বিষয় দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
বৈঠকে বিধায়ক মালুয়া-কান্দিগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনে চলমান সড়ক নির্মাণ কাজের ফলে এলাকার স্বাভাবিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির জল জমে থেকে আশপাশের বহু গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিকাজ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি আবেদন জানান।
একই সঙ্গে করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের শোচনীয় অবস্থাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের নিত্যদিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিধায়ক নতুন সড়ক নির্মাণ কাজ কবে শুরু হবে, টেন্ডার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কী এবং কাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার গর্তগুলি ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী করা হোক।
জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে করিমগঞ্জ শহরের সড়ক সংস্কার নিয়ে পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলিও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিধায়ক সেগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। বৈঠকে এনএইচআইডিসিএল-এর রিজিওনাল ম্যানেজার কিষান জাম্বুলকর আশ্বাস দিয়ে জানান, মালুয়া-কান্দিগ্রাম এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক সংস্কারের জন্য আগামী ১৬ জুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তবে শুধুমাত্র কাজ শুরু নয়, নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ। তিনি কাজের মান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠনের পরামর্শ দেন, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা আর সৃষ্টি না হয়।
এদিকে, করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী বিধায়কের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, উত্তর করিমগঞ্জের মানুষের সমস্যা সমাধানে জাকারিয়া আহমদ পান্না নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষা, যোগাযোগ, সামাজিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ এলাকার সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মালুয়া-কান্দিগ্রামের জলাবদ্ধতা এবং করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক সংস্কার নিয়ে বিধায়কের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর উত্তর করিমগঞ্জবাসীর।



